মে দিবসের কাহিনী
পূর্বকথা
মে দিবস সারা দুনিয়ার শ্রমজীবী জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিবস। তাদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের দিন। এই দিনে আমেরিকার শ্রমজীবী মানুষ ৮ ঘন্টা কাজের দাবিতে আমেরিকার সব শিল্পাঞ্চলে যে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলেছিলেন, অসংখ্য শ্রমিক যে হতাহত হয়েছিলেন, শ্রমিক নেতাদের যে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছিলো—সে সত্যটি যেন চাপা পড়ে গেছে। এমনকি খোদ মার্কিন মুল্লুকে আজও মে দিবস সরকারিভাবে স্বীকৃত নয়। আমাদের এই বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনে মে দিবস একটি নিছক উৎসব আনন্দের দিনে পরিণত করা হয়েছে। অথচ যে লক্ষ্য নিয়ে মে দিবস ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল তা আজও আমাদের দেশের শ্রমিকরা অর্জন করতে পারেনি। অথচ আজ আমরা বিশ্বব্যাপী সব দেশের নাগরিকরা যে আট ঘন্টা শ্রম সময়ের সুফল ভোগ করছি তা ঐ মহৎ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস খ্যাত মে দিবসের ফসল। এই প্রাপ্তি শুধু শ্রমজীবী জনগণই ভোগ করেনি, সব মানুষের মাঝেই তা বন্টিত হয়েছে। সবাই আমরা আট ঘন্টা শ্রম অধিকার এবং সেই সঙ্গে শ্রমজীবী জনগণের লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত নানা ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারগুলো ভোগ করছি। সেই জন্য আট ঘন্টা কর্মদিবসের দাবি শুধু শ্রমিকদের সংকীর্ণ শ্রেণী স্বার্থের দাবি ছিল না বরং তা ছিল এক মানবিক কর্মপরিবেশের সর্বজনীন অধিকারের অনুরণন। মে দিবসে তাই সেই মহৎ ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।
মে দিবসের ঘটনা
১ মে শনিবার: ১৮৮৬ সালের ১ মে ছিল শনিবার। স্বাভাবিক কাজের দিন। দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার শ্রমিকরা ৮ ঘন্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিল। সে লক্ষ্যে ১ আমেরিকার সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়। এই ধর্মঘট আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল আমেরিকার শিকাগো শহর। সেখানে শ্রমিকদের ওপর সমাজতন্ত্রীদের প্রভাব ছিল। সে কারণে শিকাগোতে ধর্মঘট খুব জঙ্গী রূপ ধারণ করে। এর আগেই অবশ্য সব শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আট ঘন্টা শ্রম সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। আমেরিকার সব সমাজতন্ত্রী বা বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ কেন্দ্রীয় মোর্চা সেন্ট্রাল লেবার ইউনিয়ন ১ মে তারিখের আগের রবিবার ১ মে এর ধর্মঘট সফল করার জন্য শিকাগো শহরে একটি সমাবেশের আয়োজন করে। ২৫ হাজার শ্রমিক এতে যোগ দেয়।
১ মে শনিবার শিকাগোর শ্রমিক অঞ্চল সমূহে ধর্মঘট সফল করা হয়। ধর্মঘট উপলক্ষে শিকাগোতে ৩ লক্ষ শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখে। সকাল থেকেই শ্রমিকরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিচিগান এভিনিউয়ের সমাবেশে যাবার প্রস্তুতি নেয়। শিকাগোর শিল্প কলকারখানার মালিকরা এতে আতংকিত হয়ে পড়ে। তাই আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেবার জন্য পুলিশ ও গুন্ডাবাহিনী জড়ো করা হয়। পত্র-পত্রিকা মারফৎ শ্রমিকদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ও আতংক ছড়ানো হয়। এত সব উস্কানীকে উপেক্ষা করে শ্রমিকরা ধর্মঘট ও মিছিল-সমাবেশ করে। শান্তিপূর্ণভাবে ও সাফল্যের সাথে ১ মে’র কর্মসূচি পালিত হয়। ১ মে’র সাফল্য থেকে আমেরিকার শ্রমজীবী মানুষ নতুন করে প্রেরণা লাভ করে। শিকাগোর ১ লাখ ২৫ হাজার শ্রমিক বিশেষ করে রাজমিস্ত্রিরা ৮ ঘন্টার কাজের দিনের দাবি আদায় করতে সক্ষম হয়। পরের দিন ২রা মে রবিবার ছুটির দিনে ধর্মঘট আরো বিস্তৃতি ঘটানোর তৎপরতা চলে। ৩ মে সোমবার ধর্মঘট আরো ব্যাপক আকার ধারণ করলো। শিকাগোর শ্রমিক শ্রেণীর এই আংশিক বিজয় এবং ঐক্য ও জঙ্গী মনোভাব শাসক তথা মালিকপক্ষকে ভীত করে তোলে। একদিকে তারা শ্রমিক ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চালায় দালাল শ্রমিক নেতাদের দিয়ে। অন্যদিকে তারা শ্রমিকদের উপর দমন নিপীড়ন চালানো শুরু করে। কিন্তু শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখে। শাসকরা একটা কিছু করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। ৩ মে ম্যাককর্মিক ফসল কাটার কারখানায় এক সভা চলার সময়ে শ্রমিকরা দালাল মাস্তানদের ডান্ডাবাজীর মোকাবিলা করে। পর মুহুর্তেই পুলিশ অতর্কিতে শ্রমিকদের সভায় হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশের গুলিতে ৬ জন ঘটনাস্থলেই নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়। এই নৃশংস হত্যাকান্ড যেখানে হয় তার কাছেই কাঠ চেরাই শ্রমিকদের এক সভা চলছিল এবং সেই সভায় শিকাগোর শ্রমিকদের অন্যতম নেতা স্পাইজ বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। গুলি বর্ষণের খবর পেয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে স্পাইজ এই পাশবিক হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে ৪ মে হে মার্কেটে এক প্রতিবাদ সভার আহ্বান করলেন।
৪ মে: হে মার্কেটের ঘটনা
৪ মে মঙ্গলবার হে মার্কেটে স্কোয়ারে এক বিরাট শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের কাছে কর্তৃপক্ষ প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করে। একটি খালি চারপায়া বগিকে বক্তৃতার মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করে সভা শুরু হয়। শ্রমিক নেতা স্পাইজ বক্তৃতা করার পর অপর শ্রমিক নেতা পার্সনস রাত দশটা পর্যন্ত দীর্ঘ বক্তৃতা করেন। শেষ বক্তা সাম ফিলডেন বক্তৃতা শেষ করার পর, শ্রমিক-জনতা যখন সভা থেকে উঠে যাচ্ছেন, ঠিক এমনি সময়ে ওয়ার্ড নামে একজন পুলিশ ক্যাপ্টেন বক্তৃতা মঞ্চের সামনে এসে নির্দেশ দেয় “ইলিনয় রাজ্যের জনগণের নামে আমি অবিলম্বে ও শান্তিপূর্ণভাবে এই সভা বন্ধ করবার নির্দেশ দিচ্ছি।” শ্রমিন নেতা ফিলডেন এর উত্তরে বলে উঠলেন, “আমরা তো শান্তিপূর্ণভাবেই আছি।” তার কথা শেষ না হতেই বোমার বিকট আওয়াজ আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠলো। আন্দোলনকে বানচাল করবার উদ্দেশ্যে ছদ্মবেশে পুলিশের লোকজন বোমাবর্ষণ করে। বোমা বিষ্ফোরণের সাথে সাথেই সুযোগসন্ধানী পুলিশ বাহিনী শ্রমিক জনতার ওপর আক্রমণ চালায়। নির্বিচারে লাঠি ও গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলে চারজন শ্রমিক নিহত ও বহু সংখ্যক আহত হয়। হে মার্কেটের চত্বর রক্তের বন্যায় প্লাবিত হয়ে যায়।
গ্রেফতার ও নির্যাতন
হে মার্কেটের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর পরই শ্রমিক এলাকাগুলোতে শ্রমিকদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার ও সন্ত্রাস চলে। পত্র-পত্রিকায় শ্রমিক নেতা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হয়। স্পাইজ, ফিলডেন, মাইকেল, স্কোয়ার, জর্জ এঙ্গেলস, এ্যাডলফ ফিসার, লুইলিংগ, অস্কার নীবে প্রমুখ শ্রমিক নেতা গ্রেফতার হন। শাসকশ্রেণি কোন রকম দেরি না করেই নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ খাড়া করে মামলা শুরু করে।
বিচারের নামে প্রহসন
শ্রমিক নেতাদের বিচার শুরু হয় ২১ জুন। এটা ছিল একটা প্রহসন। কেননা বিচারের আগেই বিচারকরা শ্রমিক নেতাদের অপরাধী বলে ঘোষণা করে। বিচারের দিনে শিকাগোর মেহনতি মানুষরা ভিড় জমায় আদালতে। একজন তরুণী প্রত্যেক অভিযুক্ত শ্রমিক নেতাকে আদালত কক্ষে প্রবেশের সময় ফুলের তোড়া উপহার দেয়। বিচারের দিন পর্যন্ত মেহনতি প্রিয় নেতা পার্সনস ছিলেন পলাতক। কিন্তু বিচারের শুরুতেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে দৃপ্ত কন্ঠে তিনি বললেন, “হে মাননীয় বিচারক আমি এসেছি আমার নিরাপরাধ কমরেডদের সাথে, বিচারের সম্মুখীন হতে। কারণ আমার বন্ধুদের শাস্তি হবে আর আমি পালিয়ে থাকব এটা করা আমার পক্ষে অসম্ভব।”
বিচারের শুরুতেই আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন অস্কার নীবে। কাজের দীর্ঘ সময়ের জন্য শ্রমিকদের জীবনের অসহনীয় কষ্টের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন যে, এই হতভাগ্যদের সংগঠিত করে অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই হচ্ছে তাঁর অপরাধ। তারপর আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য উঠে দাঁড়ান পার্সনস। কোর্টের কলারে ফুল গুঁজে আর মুখে কবিতা আবৃত্তি করে তিনি বক্তৃতা শুরু করেন। দুই দিন ধরে পার্সনস আবেগভরা কন্ঠে দুঃখ-দুর্দশা পীড়িত খেটে খাওয়া মানুষের কাহিনী বলে যান। শ্রমিক নেতা স্পাইজ আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তৃতায় তেজোদৃপ্ত কন্ঠে বলেন, “অভাব ও কষ্টে খেটে খাওয়া লাখো মানুষেরা যে আন্দোলনে মুক্তির আশা দেখে, আপনারা যদি ভেবে থাকেন যে আমাদের ফাঁসিয়ে ঝুঁলিয়ে সেই শ্রমিক আন্দোলনকে উচ্ছেদ করতে পারবেন—যদি এটাই আপনাদের মত হয়, তাহলে দিন আমাদের ফাঁসি। এখানে একটা স্ফুলিঙ্গের ওপরে আপনারা পা দেবেন; কিন্তু সেখানে থেকেই আপনাদের পেছনে—আপনাদের সামনে এবং সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে আগুন। এটা এমন আগুন যা আপনাদের নেভানোর ক্ষমতা নেই। ডাকুন আপনাদের জল্লাদদের। সক্রেটিস, যিশু, ব্রুনো, হাস, গ্যালিলিও-র যে সত্যকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল তা এখনও জীবন্ত। তাদের এক বিশাল বাহিনী এ পথে আমাদের পূর্বসূরি। আমরা তাদের উত্তরসূরি হতে প্রস্তুত।” আদালত ১৮৮৬ সালের ৯ অক্টোবর রায় দেয়। অস্কার নীবেকে ১৫ বছর কারাদন্ড এবং অন্যদের ফাঁসির হুকুম দেওয়া হয়।
রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
এই অন্যায় রায়ের বিরুদ্ধে শ্রমিক সংগঠনগুলো আওয়াজ তুললো। বিশ্বব্যাপী এই ফাঁসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ধ্বনিত হলো। শিকাগোর বিশিষ্ট নাগরিকরা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করে গভর্ণরের কাছে আবেদন জানালো। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, রাশিয়া, হল্যান্ড, ইংল্যান্ডের প্রতিবাদ সভা থেকে একই দাবি উঠল। জর্জ বার্নার্ডশও শ্রমিক নেতাদের জীবন রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। আমেরিকার সুপ্রীম কোর্ট মামলাটি পুনরায় পরীক্ষা করতে অস্বীকার করল। অবশেষে ১৮৮৭ সালে ১১ নভেম্বর ফাঁসির দিন নির্ধারিত হলো। ফাঁসির আগের দিন দু’জনকে মৃতুদন্ড থেকে রেহাই দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়। ২২ বছরের তরুণ শ্রমিক নেতা লুইলিংগকে জেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই রহস্যজনক মৃত্যুকে পুলিশ আত্মহত্যা বলে প্রচার করে।
ফাঁসির মঞ্চে জীবনের জয়গান
ফাঁসির দিন সারারাত পার্সনস, স্পাইজ, পিসার, এঙ্গেলস কেউ ঘুমালেন না। পার্সনস সারা রাত গাইলেন সংগ্রাম আর ভালবাসার গান। ফাঁসির মঞ্চে শ্রমিকদের প্রিয় নেতারা ছিলেন নির্ভিক এবং শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামের জয়গান গাইতে গাইতে তারা মৃত্যুকে বরণ করে নিলেন।
অমর মে দিবস
মৃত্যুর কয়েক দিন আগে শ্রমিক নেতা পার্সনস তাঁর স্ত্রীকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন যে, ‘আমার অসহায় প্রিয় বউ...তোমাকে আমি জনগণের কাছেই অর্পণ করছি, জনগণের এক নারী। তোমার কাছে আমার একটি অনুরোধ, আমি যখন রইবো না, তখন কোনো বেপরোয়া কাজ করো না,...সমাজতন্ত্রের মহান আদর্শকে আমি যেখানে রেখে যেতে বাধ্য হলাম সেখানে থেকে তাকে তুলে ধরো।’ পার্সনসের লেখা চিঠির বাণী সত্যিকার অথেই আজ বাস্তব রূপ পেয়েছে। সারা দুনিয়ার শ্রমজীবী মানুষ মে দিবস পালনের ঘোষণার মাধ্যমে ‘মে’ শহীদের স্মৃতিকে চিরঞ্জীব করেছে। আর এতে করে শ্রমজীবী জনগণের শোষণ মুক্তির সংগ্রাম এক নতুন প্রেরণা লাভ করেছে।
শেষ কথা
নিঃসন্দেহে মে দিবস আট ঘন্টা শ্রমের দাবিকে ছাপিয়ে শোষণ-বৈষম্যহীন সমৃদ্ধশালী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্নের বীজ পুঁতেছিল দেশে দেশে শ্রমজীবী জনগণের অন্তরে। অনেক দেশেই তাই পররর্তীতে শ্রমজীবী মানুষ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নানা অধিকার অর্জন করেছে। শ্রমিকদের নানা দাবি দাওয়া পূরণ হয়েছে। রাষ্ট্র কর্তৃক শ্রমিকদের স্বার্থে নানা কল্যাণমূলক পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে শ্রমজীবী জনগণ যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। এমনকি বিগত কয়েক দশকের শ্রমিক আন্দোলনের ফলে ইতিপূর্বে অর্জিত ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারসহ শ্রমিকদের নানা অধিকারগুলোও আজ হরণ করা হচ্ছে। বহিরাগত মাস্তান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের উৎপাত ট্রেড আন্দোলনকে শ্রমিক ও শিল্পের স্বার্থবিরোধী কালো ট্রেড ইউনিয়নে পরিণত করছে ক্রমশ। শুধু শ্রমজীবী জনগণ নয়, অনেক ক্ষেত্রে খোদ মালিকরাও আজ এই কালো ট্রেড ইউনিয়নের কাছে জিম্মি। আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে অপব্যবহার দেশ ও জাতিকে এক ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে একটি প্রকৃত সংগ্রামী, দায়িত্বশীল, গঠণমূলক ও গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে।
গ্রন্থনা: শাহীন রহমান, ১ মে ২০১৫


মন্তব্য